হোল্ডিং ট্যাক্স কী, কে দেন, কীভাবে দেবেন: বাড়িওয়ালার গাইড (ঢাকার সিটি কর্পোরেশনের পাতা থেকে)

Posted on22 October 2026
হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে অনলাইনে অনেক কথা ঘোরে, আর তার বড় অংশ কোন সূত্র থেকে এসেছে বোঝা যায় না। এই গাইডে আমরা শুধু সেই কথাই লিখেছি, যা আমরা ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ওয়েবসাইট আর আইন-সংকলন থেকে পড়েছি, আর যা পড়তে পারিনি সেটা আলাদা করে বলেছি। বাড়িওয়ালার দৃষ্টিতে লেখা, কারণ কর মূলত বাড়ির মালিকের দায়ের ব্যাপার।
> সতর্কতা: এটি আইনি বা কর-পরামর্শ নয়, একটি ব্যাখ্যা। আপনার বাড়ির অঙ্ক ঠিক করে সিটি কর্পোরেশন। চূড়ান্ত অঙ্ক আর নিয়মের জন্য আপনার ওয়ার্ডের কর কর্মকর্তা বা কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগে কথা বলুন। আয়কর (NBR) এ গাইডের বিষয় নয়।
হোল্ডিং ট্যাক্স কী
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের "হোল্ডিং ট্যাক্স সার্ভিস কার্যপ্রণালী" পাতায় লেখা আছে, নির্মিত বাড়ি, ভবন বা ফ্ল্যাটের জন্য কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে একটি "বার্ষিক মূল্যায়ন" ঠিক করা হয়, আর সেই নির্ধারিত বার্ষিক মূল্যায়নের ওপর বছরে একটি হারে কর আদায় করা হয়। ঢাকা দক্ষিণের "নতুন হোল্ডিং নম্বর ও হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান পদ্ধতি" পাতায় প্রায় একই কথা। সোজা কথায়: এটি আপনি যে ভাড়া পান তার ওপর সরাসরি কর নয়; আপনার বাড়িতে কর্পোরেশন যে বার্ষিক মূল্যায়ন বসায়, তার ওপর কর।
আয়করের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। হোল্ডিং ট্যাক্স যায় সিটি কর্পোরেশনে। ভাড়া থেকে আয়ের কর আলাদা, তার নিয়ম আলাদা।
আইনি কাঠামো (যতটুকু পড়া গেছে)
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন), যা সরকারি আইন-সংকলনে আছে, কর নিয়ে এই কথাগুলো বলে:
- ৮২ ধারা: সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে কর্পোরেশন প্রবিধান করে চতুর্থ তফসিলে বর্ণিত কর, উপ-কর, রেইট, টোল ও ফি আরোপ করতে পারে।
- ৮৩ ধারা: আরোপিত কর সরকারি গেজেটে প্রকাশ করতে হয়।
- ৮৪ ধারা: সরকার একটি "আদর্শ কর তফসিল" বানাবে, আর সিটি কর্পোরেশন কর আরোপের সময় তা নমুনা হিসেবে অনুসরণ করবে।
- ৮৬ ধারা: কর আরোপযোগ্য কি না তা ঠিক করতে কর্পোরেশন নোটিশ দিয়ে তথ্য বা কাগজ চাইতে পারে, আর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নোটিশ দিয়ে ইমারত বা স্থানে ঢুকে পরিদর্শন করতে পারেন।
- ৮৭ ধারা: আরোপিত কর নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংগ্রহ হয়, আর তা সরকারি দাবি (Public Demand) হিসেবে আদায়যোগ্য।
- ৮৮ ধারা: ধার্য কর বা সম্পত্তির মূল্যায়ন নিয়ে আপত্তি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত পদ্ধতিতে করতে হয়।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ওয়েবসাইটে "সিটি কর্পোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬" নামে একটি PDF আছে, যা ওই ৮৪ ধারার তফসিল। আমরা ফাইলটি নামিয়েছি, কিন্তু তার লেখা এমন ফন্টে এনকোড করা যে আমরা নির্ভরযোগ্যভাবে পড়তে পারিনি, তাই তফসিলের কোনো অঙ্ক বা হার আমরা এখানে লিখছি না। একই কারণে চতুর্থ তফসিলে হোল্ডিং ট্যাক্সের ঠিক কী বর্ণনা, তা-ও আমরা বলতে পারছি না, কারণ আমাদের পড়া আইনের সংরক্ষিত কপিতে তফসিলের পাঠ ছিল না। এছাড়া আইনটি ২০২৫ সালেও অধ্যাদেশ দিয়ে সংশোধিত হয়েছে; আমরা পড়েছি ২১ নভেম্বর ২০২৫-এর একটি সংরক্ষিত কপি, তাই তার পরের কোনো পরিবর্তন যাচাই করা হয়নি।
কে দেন: মালিক, না ভাড়াটিয়া
- ঢাকা উত্তরের পাতা অনুযায়ী নতুন নির্মাণ বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেভিনিউ সুপারভাইজার ফরম পূরণ করে দেন, তারপর "বাড়ির মালিকের বরাবর" কাগজপত্রসহ সাত দিন সময় দিয়ে শুনানির নোটিশ জারি হয়। নতুন হোল্ডিং নম্বরের জন্যও আবেদন করেন "জায়গার মালিক" মালিকানার কাগজসহ। অর্থাৎ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে মালিক।
- ভাড়াটিয়াকে সরাসরি দিতে হবে, এমন কোনো সরকারি পাঠ আমরা পাইনি।
- বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১-এর ৯ ধারা অনুযায়ী (আমাদের আইনের সংক্ষেপ গাইডে আছে) পৌর কর, টোল বা ফি ভাড়াটিয়ার দেওয়ার কথা থাকলে আর বাড়িওয়ালা তা দিতে রাজি হলে সেই টাকা মানসম্মত ভাড়ার ওপর ভাড়াটিয়া দেবেন। অর্থাৎ ভাড়াটিয়ার কিছু দেওয়া দুই পক্ষের সম্মতির ব্যাপার। সম্মতি হলে চুক্তিতে লিখে রাখুন, আর ভাড়ার চুক্তিপত্রের গাইডে সে জায়গা কেমন হতে পারে দেখুন।
বার্ষিক মূল্যায়ন কীভাবে হয় (সিটি কর্পোরেশনের পাতা যা বলে)
দুই সিটি কর্পোরেশনের পাতায় প্রায় একই লেখা আছে:
- নতুন নির্মাণ, পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের ক্ষেত্রে রেভিনিউ সুপারভাইজার ফরম পূরণ করে জমা দেন।
- বাড়ির মালিককে কাগজপত্রসহ সাত দিন সময় দিয়ে শুনানির নোটিশ দেওয়া হয়।
- কর্পোরেশন সরেজমিনে তদন্ত করে, প্রাপ্ত তথ্য আর জোতের বিবরণের ভিত্তিতে "ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ার অনুসরণে" বার্ষিক মূল্যায়ন ঠিক করে।
- পাতায় লেখা সময়: প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও দলিল পাওয়ার পর ৯০ দিন।
- ভাড়া বৃদ্ধি হলে কর আইনের ২৭ ধারা প্রযোজ্য, এমন কথা দুই পাতায়ই আছে।
এখানে একটি জরুরি পার্থক্য: মূল্যায়ন কর্পোরেশনের "নির্ধারিত ভাড়ার" ভিত্তিতে হয়। তাই আপনি আসলে মাসে কত ভাড়া পান আর কর্পোরেশনের মূল্যায়ন কত, দুটো আলাদা সংখ্যা হতে পারে। কর্পোরেশনের নির্ধারিত ভাড়া কীভাবে ঠিক হয় (মাপ, এলাকা, ব্যবহার ইত্যাদি) তার বিস্তারিত পাতায় নেই, আর আমরা তা অনুমান করব না।
হারের কথা: পাতায় যা লেখা আছে
| পাতা | লেখা হার | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, হোল্ডিং ট্যাক্স সার্ভিস কার্যপ্রণালী | নির্ধারিত বার্ষিক মূল্যায়নের ওপর বছরে ১২% (আবাসিক), ২৩% (বাণিজ্যিক বা শিল্প) | পাতা সর্বশেষ হালনাগাদ ২৯ এপ্রিল ২০২৫ (পাতার নিজের তথ্য) |
| ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নতুন হোল্ডিং নম্বর ও হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান পদ্ধতি | বছরে ১২% | পাতা সর্বশেষ হালনাগাদ ২৩ মে ২০২৬ (পাতার নিজের তথ্য) |
এগুলো সিটি কর্পোরেশনের নিজের সেবা-বর্ণনার পাতার কথা, আমরা সেভাবেই লিখেছি। গেজেট বা তফসিলের পাঠ আমরা পড়তে পারিনি, তাই এগুলোকে "আইনের হার" বলে চালাচ্ছি না। অন্য সিটি কর্পোরেশন (চট্টগ্রাম, রাজশাহী ইত্যাদি) বা পৌরসভার হার আমরা যাচাই করিনি, পৌরসভার কর-ব্যবস্থাও এই গাইডের বাইরে।
নতুন হোল্ডিং নম্বর নিয়েও পাতায় কিছু অঙ্ক আছে, কিন্তু দুই কর্পোরেশনের লেখা এক নয় (খালি জায়গা ও নির্মাণাধীন কাঠামোর বার্ষিক কর ঢাকা উত্তরের পাতায় ৬৬০ টাকা, দক্ষিণের পাতায় ২৭ টাকা; উত্তরের পাতায় নতুন নম্বরের এন্ট্রি ফি ১০,০০০ টাকা, দক্ষিণের পাতায় এমন ফির উল্লেখ নেই)। অঙ্কগুলো কীসের একক বা কোন অবস্থার জন্য, তা পাতায় স্পষ্ট নয়, তাই এগুলোর ওপর ভরসা করে সিদ্ধান্ত নেবেন না; ওয়ার্ডের কর কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করুন। নতুন নম্বরের সময়: খালি জায়গা ও নির্মাণাধীন কাঠামোয় ১৫ দিন, কাঠামো থাকলে ৯০ দিন (দুই পাতায়ই)। ঢাকা উত্তরে "হোল্ডিংএর নামজারী" নামে আলাদা একটি সেবার পাতা আছে, সেটি আমরা বিস্তারিত পড়িনি।
অনলাইনে কীভাবে দেবেন
সরকারি সূত্রে যা পাওয়া গেছে:
- ঢাকা উত্তরের ই-রেভিনিউ পোর্টাল (erevenue.dncc.gov.bd) নিজেকে বর্ণনা করে "E Revenue (Holding Tax, Trade License, Hotel Tax, Market Salami, Wheel Tax) Management, Citizen's Portal" হিসেবে। পাতায় Login আর "Do not have an account? CREATE ONE" আছে।
- ঢাকা দক্ষিণের ই-রেভিনিউ পোর্টালও (erevenue.dscc.gov.bd) একই ধাঁচের: হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, মার্কেট সালামী ও হুইল ট্যাক্সের সিটিজেন পোর্টাল। দক্ষিণের সেবার পাতায় "অনলাইনে আবেদনের লিংক" হিসেবে এই পোর্টালের ঠিকানাই দেওয়া।
- দুটি পোর্টালেই ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন বাছার তালিকা আছে।
খবরের সূত্রে, সরকারি পাতার বাইরে:
- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ৩০ মার্চ ২০২২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ঢাকা উত্তর ১ এপ্রিল ২০২২ থেকে সব অঞ্চলে অনলাইনে হোল্ডিং ট্যাক্স নেওয়ার কথা জানায়, ১০টি ব্যাংক ও একটি মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের সাথে সমঝোতা স্মারক সই হয়, আর মেয়র বলেন "নগদ লেনদেন থাকবে না" (প্রতিবেদন)। ২ নভেম্বর ২০২২-এর আরেকটি প্রতিবেদনে মেয়রকে বলতে শোনা যায়, এনআইডি নম্বর, ইমেইল ও মোবাইল নম্বর দিয়ে অনলাইনে বিল দেওয়া যায় (প্রতিবেদন)। দুটোই পুরোনো খবর; ব্যবস্থা পরে বদলে থাকতে পারে।
যা আমরা যাচাই করতে পারিনি: পোর্টালে ধাপে ধাপে কী করতে হয়, কোন ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং এখন চলে, সময়মতো দিলে ছাড় বা দেরিতে জরিমানা আছে কি না, আর বকেয়া কর কীভাবে মেটে। এগুলো আমরা অনুমান করে লিখব না। পোর্টালে নিজে লগইন করে (বা ওয়ার্ডের কর কর্মকর্তার কাছে গিয়ে) দেখে নিন।
বাড়ির হিসাবের ক্যালকুলেটর কী করে, আর কী ধরে নেয়
আমাদের হোল্ডিং ট্যাক্স ক্যালকুলেটর একটি ফ্রি, লগইন ছাড়া ব্যবহারযোগ্য আনুমানিক হিসাবের টুল। আপনি তিনটি জিনিস দেন: মাসিক ভাড়া, হার (%) আর বছরে কত মাস ফ্ল্যাট খালি ছিল। ক্যালকুলেটর যা করে:
- মাসিক ভাড়াকে ১২ দিয়ে গুণ করে বার্ষিক ভাড়া বের করে, খালি মাসগুলো বাদ দেয়।
- তার থেকে ৪০% "রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়" কেটে নেয়।
- যা থাকে তার ওপর আপনার দেওয়া হার (ডিফল্ট ১২%) বসিয়ে বার্ষিক কর আর মাসিক গড় দেখায়।
ধরে নেওয়া মানগুলোর অবস্থা:
- ১২% হার: ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের পাতায় আবাসিকের জন্য ১২% লেখা, যা ডিফল্টের সাথে মেলে। হার বদলে নিতে পারবেন।
- ৪০% ছাড়: এটা আমাদের ক্যালকুলেটরের ধরে-নেওয়া মান। দুই সিটি কর্পোরেশনের যে পাতা আমরা পড়েছি, তাতে এমন ছাড়ের কথা পাইনি। আদর্শ কর তফসিলে থাকতে পারে, কিন্তু আমরা সেটা পড়তে পারিনি। ক্যালকুলেটরের নিজের পাতায়ও এটি "ধরে-নেওয়া মান" বলেই লেখা।
- ভিত্তি: ক্যালকুলেটর আপনার নিজের দেওয়া ভাড়ার ওপর হিসাব করে। সিটি কর্পোরেশনের পাতা বলছে মূল্যায়ন হয় কর্পোরেশনের নির্ধারিত ভাড়ায়। দুটো আলাদা হতে পারে।
- খালি মাস: ক্যালকুলেটরের ঘর আছে, কিন্তু খালি মাসের জন্য কর বাদ যাওয়ার অফিসিয়াল নিয়ম আমরা সিটি কর্পোরেশনের পাতায় পাইনি।
কাজেই ক্যালকুলেটরের ফল বাজেট ভাবার জন্য, সিটি কর্পোরেশনের বিলের বিকল্প নয়।
অ্যাপে হোল্ডিং ট্যাক্সের হিসাব রাখা
পাঠকের জানা দরকার: এই গাইডের লেখক, Teamz Lab, বাড়ির হিসাব অ্যাপের নির্মাতা। অ্যাপের কোড দেখে যা নিশ্চিত: খরচের খাতায় খরচের ধরনের তালিকায় Government tax (সরকারি কর) আছে, আর "Regular expenses (automatic)" (নিয়মিত খরচ) অংশে এক চাপে Holding tax বেছে নেওয়ার প্রিসেট আছে, যা বছরে একবার করে খরচের খাতায় যোগ হওয়ার হিসেবে বসে। অ্যাপ আপনার হোল্ডিং ট্যাক্স সিটি কর্পোরেশনে জমা দেয় না, বা অঙ্কও জানে না; আপনি অঙ্ক লিখবেন, অ্যাপ শুধু খাতায় রাখবে। বছর শেষে আয়করের খসড়া হিসাবের জন্য খরচের ধরন আলাদা করে রাখা কাজে আসতে পারে। ভাড়ার খাতার সাধারণ নিয়ম আছে ভাড়ার খাতা কীভাবে রাখবেন গাইডে।
সূত্র
- ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন: হোল্ডিং ট্যাক্স সার্ভিস কার্যপ্রণালী এবং নতুন হোল্ডিং নম্বর: ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পড়া।
- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন: নতুন হোল্ডিং নম্বর ও হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান পদ্ধতি: ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পড়া।
- ঢাকা উত্তর ই-রেভিনিউ সিটিজেন পোর্টাল ও ঢাকা দক্ষিণ ই-রেভিনিউ সিটিজেন পোর্টাল: শুধু প্রথম পাতা দেখা হয়েছে, লগইন করা হয়নি।
- স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (bdlaws.minlaw.gov.bd): ৮২ থেকে ৯০ ধারা। সাইটটি আমাদের এখান থেকে খুলছিল না, তাই পাঠ পড়া হয়েছে সংরক্ষিত কপি থেকে (কপির ছাপার তারিখ ২১ নভেম্বর ২০২৫)। তফসিলের পাঠ ওই কপিতে ছিল না।
- The Business Standard, ৩০ মার্চ ২০২২ এবং ২ নভেম্বর ২০২২: অনলাইন পরিশোধ নিয়ে খবর, ২০২২-এর অবস্থা।
- বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১: ৯ ধারার সারাংশ আমাদের ১৯৯১ আইনের গাইড থেকে।
সাধারণ প্রশ্ন
হোল্ডিং ট্যাক্স কী?
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সরকারি পাতা অনুযায়ী এটি বাড়ি, ভবন বা ফ্ল্যাটের বার্ষিক মূল্যায়নের ওপর সিটি কর্পোরেশনকে দেওয়া বার্ষিক কর। বার্ষিক মূল্যায়ন ঠিক করে সিটি কর্পোরেশন, বাড়িওয়ালার নিজের বলা ভাড়ার ভিত্তিতে নয়।
ঢাকায় আবাসিক বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্সের হার কত?
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স সেবার পাতায় লেখা আছে নির্ধারিত বার্ষিক মূল্যায়নের ওপর আবাসিক ব্যবহারে ১২% আর বাণিজ্যিক বা শিল্প ব্যবহারে ২৩%। ঢাকা দক্ষিণের পাতায় ১২% লেখা। এটি সিটি কর্পোরেশনের নিজের পাতার বক্তব্য, গেজেটের পাঠ আমরা পড়তে পারিনি। অন্য সিটি কর্পোরেশনের হার আমরা যাচাই করিনি।
হোল্ডিং ট্যাক্স কি বাড়িওয়ালা দেন, না ভাড়াটিয়া?
ঢাকা উত্তরের পাতায় মূল্যায়নের শুনানির নোটিশ যায় বাড়ির মালিকের নামে। ভাড়াটিয়াকে সরাসরি দিতে হবে, এমন কোনো সরকারি পাঠ আমরা পাইনি। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১-এর ৯ ধারা অনুযায়ী, কর ভাড়াটিয়ার দেওয়ার কথা থাকলে আর বাড়িওয়ালা তা দিতে রাজি হলে সেই টাকা ভাড়াটিয়া দিতে পারেন। এটা দুই পক্ষের লিখিত সম্মতির বিষয়।
হোল্ডিং ট্যাক্স কোথায় দেবেন?
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ই-রেভিনিউ সিটিজেন পোর্টাল আছে (erevenue.dncc.gov.bd ও erevenue.dscc.gov.bd), যেখানে হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ রাজস্বের সেবা লেখা, লগইন আর অ্যাকাউন্ট খোলার অপশন আছে। ধাপে ধাপে কীভাবে দেবেন, কোন ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং চলে, তা আমরা সরকারি পাতা থেকে যাচাই করতে পারিনি।
বাড়ির হিসাবের ক্যালকুলেটরের হিসাব কি সঠিক?
না, এটি আনুমানিক। ক্যালকুলেটর আপনার দেওয়া মাসিক ভাড়ার ওপর ৪০% রক্ষণাবেক্ষণ ছাড় ধরে নিয়ে (ডিফল্ট) ১২% হার বসায়। সিটি কর্পোরেশনের পাতা অনুযায়ী মূল্যায়ন হয় কর্পোরেশনের নির্ধারিত ভাড়ার ভিত্তিতে, আর ৪০% ছাড়ের কথা আমরা সরকারি পাতায় পাইনি। চূড়ান্ত অঙ্কের জন্য সিটি কর্পোরেশনের হিসাব দেখুন।
মূল্যায়ন বা কর নিয়ে আপত্তি থাকলে কী করবেন?
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৮৮ ধারা অনুযায়ী ধার্য কর বা সম্পত্তির মূল্যায়ন নিয়ে আপত্তি নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত পদ্ধতিতে তুলতে হয়। কোন কর্তৃপক্ষ ও কোন পদ্ধতি, তা আমরা এই আইনের পাঠে পাইনি; সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগে জিজ্ঞেস করুন।
হোল্ডিং ট্যাক্সের আনুমানিক হিসাব দেখুন (ফ্রি ক্যালকুলেটর)
প্রকাশক: Teamz Lab LTD (কোম্পানি পরিচিতি, আমাদের টিম)। যোগাযোগ: [email protected] · WhatsApp +44 7490 356046 · গোপনীয়তা নীতি। সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ অক্টোবর ২০২৬। এটি আইনি বা কর-পরামর্শ নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগ বা একজন পেশাদারের সাথে কথা বলুন।