বাড়ি ভাড়ার রশিদ: কী কী লিখবেন, আইন কী বলে (কপি করার ফরম্যাটসহ)

বাড়ি ভাড়ার রশিদ: কী কী লিখবেন, আইন কী বলে (কপি করার ফরম্যাটসহ)
Posted on22 October 2026

বাড়ি ভাড়ার রশিদ হলো এমন একটি লিখিত কাগজ, যেখানে বাড়িওয়ালা জানান যে তিনি একটি নির্দিষ্ট মাসের ভাড়া কত টাকা পেয়েছেন। বাংলাদেশের বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ এ রশিদ দেওয়ার নিয়ম আছে: ১৩ ধারা বলে বাড়িওয়ালা তৎক্ষণাৎ রশিদ দেবেন, আর ২৭ ধারা বলে না দিলে জরিমানা হতে পারে। নিচে সেই নিয়ম, রশিদে কী কী লিখবেন আর কপি করে ব্যবহারের মতো একটি ফরম্যাট আছে।

আইন কী বলে

নিচের কথাগুলো বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ৩ নং আইন)-এর সরকারি পাঠ থেকে। সংক্ষেপে লেখা, হুবহু উদ্ধৃতি নয়।

  • ১৩(১) ধারা: ভাড়াটিয়া ভাড়া পরিশোধ করলে বাড়ি-মালিক তৎক্ষণাৎ ভাড়া প্রাপ্তির একটি রশিদ বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর করে ভাড়াটিয়াকে দেবেন।
  • ১৩(২) ধারা: বাড়ি-মালিক ভাড়ার রশিদের একটি চেকমুড়ি, অর্থাৎ নিজের কপি, সংরক্ষণ করবেন।
  • ২৭ ধারা: রশিদ দিতে অস্বীকার করলে বা না দিলে ভাড়াটিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়ি-মালিক আদায় করা টাকার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
  • ২৮ ও ২৯ ধারা: অভিযোগ নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিতভাবে করতে হয়, আর অপরাধের ছয় মাস পার হয়ে গেলে অভিযোগ আনা যায় না।

কয়েকটি বিষয় আমরা যাচাই করতে পারিনি, তাই পরিষ্কার করে বলছি:

  1. "বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরম" মানে আইনের অধীনে তৈরি বিধিমালার একটি ছক। সেই ছকের পাঠ আমরা পাইনি। তাই নিচের ফরম্যাট আইনের ছকের হুবহু নকল নয়।
  2. কোন এলাকায় আইন চলে: ১(২) ধারা বলে, ১৯৮৬ সালের অধ্যাদেশ যেসব এলাকায় চালু ছিল, সেখানে আইনটি চলে, আর সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে অন্য এলাকায় চালু বা বন্ধ করতে পারে। নিজের এলাকার অবস্থা আইনজীবীর কাছে জেনে নিন।
  3. সংশোধনী: আমরা ২০২৪ সালের ৫ মার্চের একটি সংরক্ষিত কপি থেকে পাঠ পড়েছি। এর পরে কোনো সংশোধনী হয়েছে কি না, তা যাচাই করিনি।

বাস্তবে নিয়মটা কতটা মানা হয়, তার একটি ছোট নমুনা আছে। খুলনা মহানগরীতে ৬০ জনের ওপর একটি গবেষণা বলছে, রশিদ ও চুক্তিপত্র না দেওয়া সেখানে সাধারণ লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে (BAUET Journal, ভলিউম ৫, ইস্যু ১)। অর্থাৎ নিয়মটা কাগজে আছে, কিন্তু রশিদ লেখার অভ্যাস সবার নেই। রশিদ রাখলে বিবাদের সময় দুই পক্ষই কাগজ দেখাতে পারেন।

কপি করে ব্যবহারের মতো রশিদের ফরম্যাট

নিচের লেখাটি কপি করে Word বা কাগজে বসিয়ে নিন। ফাঁকা জায়গা ভরে প্রিন্ট করুন, সই দিন আর একটি কপি রেখে দিন।

ভাড়ার রশিদ

রশিদ নং: ........      তারিখ: ../../....

প্রাপ্তি স্বীকার করছি যে ....................................... (ভাড়াটিয়ার নাম)
.............................. (ভবনের নাম ও ঠিকানা), ফ্ল্যাট/রুম নং ........
এর ................ মাস .......... সালের ভাড়া বাবদ নিচের টাকা পেয়েছি:

  বিবরণ                          টাকা
  --------------------------------------
  মাসিক ভাড়া                    ........
  গ্যাস বিল                      ........
  বিদ্যুৎ বিল                    ........
  পানি বিল                       ........
  সার্ভিস চার্জ/অন্যান্য         ........
  --------------------------------------
  মোট প্রাপ্ত টাকা               ........
  (কথায়: ................................ টাকা মাত্র)

  এ পর্যন্ত বকেয়া থাকলে (পূর্ববর্তী মাসের): ........
  এই মাসে আংশিক দিলে বাকি: ........

পরিশোধের মাধ্যম: [ ] নগদ  [ ] bKash  [ ] Nagad  [ ] ব্যাংক  [ ] অন্যান্য
ট্রানজেকশন আইডি (নগদ ছাড়া): ................

বাড়িওয়ালার/প্রাপকের নাম: ..............................
মোবাইল: ...............
স্বাক্ষর: ..............................

ভাড়াটিয়ার স্বাক্ষর (ঐচ্ছিক): ..............................

প্রতিটি ঘরে কী লিখবেন

রশিদ নম্বর। প্রতি মাসে এক নম্বর করে এগিয়ে যান: ০০১, ০০২, ০০৩। নম্বর থাকলে বছর শেষে কোন রশিদ হারিয়েছে, তা ধরা সহজ। ১৩(২) ধারার চেকমুড়ির কথাও এখানে আসে: আপনার কপিতেও একই নম্বর থাকবে।

কোন মাসের ভাড়া। টাকা কবে নিলেন, আর কোন মাসের জন্য নিলেন, দুটো আলাদা তথ্য। জানুয়ারির ভাড়া ফেব্রুয়ারির ৫ তারিখে এলে তারিখ ০৫ ফেব্রুয়ারি আর মাস জানুয়ারি লিখুন।

ভাড়া আর বিল আলাদা লাইনে। বাড়ি ভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, সার্ভিস চার্জ আলাদা লিখলে ভাড়াটিয়া বুঝতে পারেন কোন টাকা কীসের। বিল নিয়ে তর্ক হলে আলাদা লাইন কাজে আসে।

আংশিক টাকা। ভাড়াটিয়া যদি পুরো টাকা একসাথে না দেন, তাহলে যতটা পেলেন সেটাই "মোট প্রাপ্ত টাকা" ঘরে লিখুন, আর নিচে বাকি কত রইল লিখে দিন। এতে "আমি তো পুরো দিয়েছি" ধরনের কথা ওঠে না।

পরিশোধের মাধ্যম ও ট্রানজেকশন আইডি। bKash বা Nagad-এ নিলে ট্রানজেকশন আইডিটা রশিদে বসান। পরে ফোনের মেসেজের সাথে মেলানো সহজ হয়।

স্বাক্ষর। ১৩(১) ধারা বাড়ি-মালিকের স্বাক্ষরের কথা বলে। ভাড়াটিয়ার স্বাক্ষর আইনে আলাদা করে চাওয়া হয়নি, কিন্তু নিলে ভালো।

হাতে লেখা, প্রিন্ট করা, নাকি PDF

আইনের শব্দ হলো "স্বাক্ষর করিয়া" দেওয়া রশিদ আর রশিদের "চেকমুড়ি" সংরক্ষণ। হাতে লেখা রশিদ বই (কার্বন কপিসহ) এই বর্ণনার সবচেয়ে কাছে। PDF বা ফোনের অ্যাপের রশিদ আইনের এই বর্ণনায় ঠিক পড়ে কি না, সে বিষয়ে আমরা কোনো যাচাই করা সূত্র পাইনি। তাই নিরাপদ পথ হলো: PDF বানান, প্রিন্ট করে সই করে দিন, আর পিডিএফের একটি কপি ফোনে বা কম্পিউটারে রেখে দিন।

অ্যাপে করলে কী সুবিধা

কাগজে প্রতি মাসে নতুন করে লেখা ঝামেলার। বাড়ির হিসাবের রসিদ পাতায় ভাড়াটিয়ার নাম, ফ্ল্যাট আর মাসের হিসাব একবার বসালে প্রতি মাসের PDF রসিদ তৈরি হয় আর WhatsApp-এ পাঠানো যায়। মাসের পর মাসের হিসাব রাখতে চাইলে ভাড়ার খাতা অ্যাপের পাতাটি দেখুন, আর কী নিয়মে খাতা রাখবেন তার জন্য আমাদের ভাড়ার খাতা রাখার গাইড পড়তে পারেন।

প্রকাশের সময় জানিয়ে রাখি: এই গাইডের লেখক, Teamz Lab, বাড়ির হিসাব অ্যাপটির নির্মাতা।

সূত্র

সাধারণ প্রশ্ন

বাড়ি ভাড়ার রশিদ দেওয়া কি বাড়িওয়ালার জন্য বাধ্যতামূলক?

বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী ভাড়াটিয়া ভাড়া দিলে বাড়ি-মালিক তৎক্ষণাৎ ভাড়া প্রাপ্তির একটি রশিদ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর করে, ভাড়াটিয়াকে দেবেন। এই আইন সব এলাকায় সমানভাবে চলছে কি না, তা ১(২) ধারা অনুযায়ী এলাকার ওপর নির্ভর করে, তাই নিজের এলাকার জন্য আইনজীবীর কাছে জেনে নিন।

রশিদ না দিলে কী হয়?

২৭ ধারা অনুযায়ী রশিদ দিতে অস্বীকার করলে বা ব্যর্থ হলে বাড়ি-মালিক ভাড়াটিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে আদায় করা টাকার দ্বিগুণ অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। অভিযোগ নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিতভাবে করতে হয় (২৮ ধারা) এবং অপরাধের ছয় মাস পার হলে করা যায় না (২৯ ধারা)।

রশিদ কি হাতে লিখলেই চলবে, নাকি PDF লাগবে?

আইনের ভাষা হলো স্বাক্ষর করা রশিদ আর রশিদের চেকমুড়ি সংরক্ষণ। PDF বা অ্যাপের রশিদ এই ভাষার সাথে মেলে কি না, তা আমরা যাচাই করিনি। তাই সম্ভব হলে প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করে দিন আর একটি কপি নিজের কাছে রাখুন।

রশিদে কি রাজস্ব স্ট্যাম্প লাগে?

এ বিষয়ে আমরা কোনো যাচাই করা সূত্র পাইনি, তাই এখানে কিছু লিখছি না। আপনার এলাকার সাব-রেজিস্ট্রার অফিস বা আইনজীবীর কাছে জেনে নিন।

ভাড়া bKash-এ নিলে রশিদে কী লিখবেন?

পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে bKash লিখুন আর bKash-এর ট্রানজেকশন আইডি রশিদে বসান। তাহলে পরে মেলাতে সুবিধা হয়। নগদ নিলে মাধ্যম 'নগদ' লিখুন।

বাড়ির হিসাবে PDF রশিদ বানান

প্রকাশক: Teamz Lab LTD (কোম্পানি পরিচিতি, আমাদের টিম)। যোগাযোগ: [email protected] · WhatsApp +44 7490 356046 · গোপনীয়তা নীতি। সর্বশেষ হালনাগাদ: ২২ অক্টোবর ২০২৬। এটি আইনি পরামর্শ নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলুন।